মেঘের ছায়া

By:

Format

Hardcover

Country

বাংলাদেশ

160

“মেঘের ছায়া”বইটির প্রথমের কিছু কথা:
রেহানা গ্লাসভর্তি তেঁতুলের সরবত নিয়ে যাচ্ছিলেন, শুভ্র’র ঘরের কাছে এসে থমকে দাঁড়ালেন। চাপা হাসির শব্দ আসছে। শুভ্র হাসছে। রাত একটা বাজে। শুভ্রের ঘরের বাতি নেভানাে। সে অন্ধকারে হাসছে কেন? মানুষ কখনাে অন্ধকারে হাসে না। কাঁদতে হয় অন্ধকারে, হাসতে হয় আলােয়। রেহানা ডাকলেন, ‘শুভ্র !’
শুভ্র হাসি থামিয়ে সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিল, কি মা? ‘কি করছিস?” ‘ঘুমুচ্ছিলাম, হঠাৎ ঘুম ভাঙল। রাত কত মা?” ‘একটা বাজে। তাের কি কিছু লাগবে?” ‘না। শুভ্র আবার হাসছে। শব্দ করে হাসছে।
রেহানা চিন্তিত মুখে সরবতের গ্লাস নিয়ে শােবার ঘরে ঢুকলেন। কেন জানি শুভ্রকে নিয়ে তাঁর চিন্তা লাগছে। তাঁর মনে হচ্ছে শুভ্র’র কোনাে সমস্যা হয়েছে।
ইয়াজউদ্দিন সাহেব খালিগায়ে ফ্যানের নিচে বসে আছেন। কার্তিক মাস, ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা লাগছে। শীত নেমে গেছে। ঘুমুতে হয় গায়ে পাতলা চাদর দিয়ে। এই সময়ে খালি গায়ে ফ্যানের নিচে বসে থাকার অর্থ হয় না। ইয়াজউদ্দিন সাহেব বসে আছেন, কারণ তাঁর গরম লাগছে। অল্প-অল্প ঘাম হচ্ছে। বুকে চাপা ব্যথা অনুভব করছেন। তাঁর ধারণা, তিনি হার্ট অ্যাটাক প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাচ্ছেন। অন্য যে-কেউ এই অবস্থায় ঘাবড়ে যেত। ইয়াজউদ্দিন সাহেব খুব স্বাভাবিক আছেন। স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘গ্লাসে কি?
‘তেঁতুলের সরবত। বিট লবণ, চিনি, তেঁতুল। খাও, ভালাে লাগবে। ইয়াজউদ্দিন সাহেব কোনাে তর্কের ভেতর গেলেন না। গ্লাস হাতে নিলেন। রেহানার নির্বুদ্ধিতায় মাঝে-মাঝে তিনি পীড়িত বােধ করেন। আজও করছেন। তাঁর কি সমস্যা রেহানা জানে না। রেহানাকে বলা হয় নি। অথচ সে তেঁতুলের সরবত নিয়ে এসেছে, এবং রেহানার ধারণা হয়েছে এই সরবত খেলে ইয়াজউদ্দিন সাহেবের ভালো লাগবে। কে তাকে এইসব চিকিৎসা শিখিয়েছে? বছর দুই আগে তাঁর একবার তীব্র
Writer

Publisher

ISBN

9844601X4

Genre

Pages

92

Published

14th Edition, 2022

Language

বাংলা

Country

বাংলাদেশ

Format

Hardcover

হুমায়ূন আহমেদ। একজন জনপ্রিয় সহজ লেখকের নাম। তার গল্প, উপন্যাস, স্মৃতিকথা, ভ্রমণ কাহিনী- এমনই বলে। তাঁর লেখার রসবোধ, সেন্স অব হিউমার, তথ্য-উপাত্ত-পরিসংখ্যান ইত্যাদির অভূত সমন্বয় নিয়ে ব্যাপক কথাবার্তা তো রয়েছে অবশ্যই। লেখালিখিই শুধু তাঁর একমাত্র জীবন নয়; এ জীবনের পরেও অন্য একটি জীবন আমরা তাঁর মাঝে খুঁজে পাই। সেটি যথার্থই বিশ্বাসের জীবন। তার ধর্মচিন্তা, চর্চা কিংবা বিশ্বাস ও সংশয়বাদের জা’গাকে মেপেজুকে দেখার নিরন্তর প্রচেষ্টার কথা সাহিত্যপ্রিয়ের কাছে নতুন নয় একদমই। তাঁর মৃত্যুর আগে ও পরে এ চর্চা ছিল এবং রয়েছে। এ জা’গায় আন্তরিক শ্রম দিতে দেখি তরুণ চিন্তক সাঈদ হোসাইনকে। তিনি হুমায়ূন আহমেদের বিশ্বাস ও শেকড়ে ফেরা নিয়ে অল্প কথার অথচ উত্তুঙ্গু ভাবনার বেশ তথ্য পাঠকের সামনে উপস্থাপন করেছেন। লেখকের চিন্তার সৌন্দর্য পাঠক অন্তর ছুঁয়ে যাবে- বলতে দ্বিধা নেই। হুমায়ূন আহমেদ: তাঁর বিশ্বাস ও শেকড়ে ফেরা গ্রন্থটি হুমায়ুনের বিশ্বাসের বলয়কে কতোটুকু স্থায়িত্ব দিবে তা কালই নির্ধারণ করবে। হুমায়ূন ভক্তরা গ্রন্থটি সাদরে গ্রহণ করলেই আমাদের শ্রম-সার্থক বিবেচনায় আনতে পারি।