মেঘ বলেছে যাব যাব

By:

Format

Hardcover

Country

বাংলাদেশ

400

ফ্ল্যাপে লেখ কিছু কথা
মেঘ বলেছে যাবো।আকাশের মেঘেরা কি কথা বলে? তারা কি যেতে চায় কোথাও? তারা কোথায় যেতে চায়? বর্ষান ঘন কালো আকাশের দিকে তাকিয়ে চিত্রলেখার হঠাৎ এই কথা মনে হল। দশ-বার বছরের কিশোরীর মনে এর রকম একটা চিন্তা আসতে পারে, চিত্রলেখার বয়স পঁচিশ। এ রকম উদ্ভট তার জন্যে স্বাভাবিক নয়। তবুও কেন জানি নিজেকে তার মেঘের মতো মনে হয়। তার কোথায় জানি যেতে ইচ্ছা করে। এ রকম ইচ্ছা তো সব মানুষেরই কবে। সব মানুষের ভেতরই কি তাহলে এক টুকরা মেঘ ঢুকে আছে, যে কেবলি কোথাও যেতে চায়?

ভূমিকা
অনেকদিন থেকে লেখালেখি করতে পারছিলাম না। কাগজ-কলম নিয়ে বসি-ঘন্টাখানিক পার হয় উঠে আসি। কাগজে নানাবিধ চিত্রকলা দেখা যায়। সেইসব চিত্রকর্ম দেখে আমার পুত্র নুহাশ খুব আহ্লাদিত হলেও অন্যরা আমার দিকে কেমন কেমন করে যেন তাকায়। এক সময় লিখতে শুরু করলাম। খুবই অনাগ্রহ দিনে লেখা। যেন আনন্দময় লেখা নয় বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা দেবার জন্যে টার্ম পেপার তৈরি করছি। লেখাটা এগোতে লাগল একটু অদ্ভুত ভঙ্গিতে, সবাই প্রথম চ্যাপ্টার লিখে দ্বিতীয় চ্যাপ্টার লেখে তারপর যায় তৃতীয়তে। আমি শুরু করলাম উল্টো দিকে। প্রথম যে চ্যাপ্টারটা লেখা হল-এক সময় সেটা হয়ে গেল সপ্তম চ্যাপ্টার। যা শুরু হল আমাদের ময়মনহিংহের ভাষায় তাকে বলে-“বেরাছেড়া”। এক সময় সেই বেরাছেড়ার সমাপ্তি হল। প্রকাশক বন্ধু আলমগীর রহমান খুশি মনে পাণ্ডুলিপি ছাপতে নিয়ে গেলেন। লেখা কম্পোজ এবং প্রুফ দেখা শেষ হবার পর যখন ছাপা শুরু হবে তখন আমি তাঁকে বললাম- কয়েকটা নাম পাল্টে দিতে হবে। নামগুলো উপন্যাসের চরিত্রগুলোর সঙ্গে যাচ্ছে না। তিনি মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লেন। সঙ্গত যুক্তি দেখালেন-নামের সঙ্গে চরিত্রের সম্পর্ক কী? একই নাম অথচ চরিত্রের আকাশ-পাতাল পার্থক্য তো সব সময় দেখা যায়। অকাট্য যুক্তি-কিন্তু লেখালেখির জগৎটা হিমুর জগতের মতো যেখানে যুক্তি সব সময় খাটে না। নাম পাল্টানো হল। তখন আমি বললাম, বইয়ের নামও আমি পাল্টেছি। তিনি দ্বিতীয়বার মাথায় হত দিয়ে বসে পড়লেন। কারণ প্রচ্ছদ হয়ে গেছে। আবার নতুন নামে প্রচ্ছদ হল। বই বের হয়ে গেছে। এখন আমার বইয়ের বর্তমান নামটাও পছন্দ হচ্ছে না। মনে হচেছ আগের নামটাই ভালো ছিল। তারচেয়েও মজার ব্যাপার-চরিত্রগুলোর আগে যে নাম ছিল এখন মনে হচেছ সেই নামগুলোই ঠিক ছিল।
হুমায়ূন আহমেদ
৩১ জানুয়ারি’ ৯৭

Writer

Publisher

ISBN

9844150515

Genre

Pages

244

Published

Edition, 2023

Language

বাংলা

Country

বাংলাদেশ

Format

Hardcover

হুমায়ূন আহমেদ। একজন জনপ্রিয় সহজ লেখকের নাম। তার গল্প, উপন্যাস, স্মৃতিকথা, ভ্রমণ কাহিনী- এমনই বলে। তাঁর লেখার রসবোধ, সেন্স অব হিউমার, তথ্য-উপাত্ত-পরিসংখ্যান ইত্যাদির অভূত সমন্বয় নিয়ে ব্যাপক কথাবার্তা তো রয়েছে অবশ্যই। লেখালিখিই শুধু তাঁর একমাত্র জীবন নয়; এ জীবনের পরেও অন্য একটি জীবন আমরা তাঁর মাঝে খুঁজে পাই। সেটি যথার্থই বিশ্বাসের জীবন। তার ধর্মচিন্তা, চর্চা কিংবা বিশ্বাস ও সংশয়বাদের জা’গাকে মেপেজুকে দেখার নিরন্তর প্রচেষ্টার কথা সাহিত্যপ্রিয়ের কাছে নতুন নয় একদমই। তাঁর মৃত্যুর আগে ও পরে এ চর্চা ছিল এবং রয়েছে। এ জা’গায় আন্তরিক শ্রম দিতে দেখি তরুণ চিন্তক সাঈদ হোসাইনকে। তিনি হুমায়ূন আহমেদের বিশ্বাস ও শেকড়ে ফেরা নিয়ে অল্প কথার অথচ উত্তুঙ্গু ভাবনার বেশ তথ্য পাঠকের সামনে উপস্থাপন করেছেন। লেখকের চিন্তার সৌন্দর্য পাঠক অন্তর ছুঁয়ে যাবে- বলতে দ্বিধা নেই। হুমায়ূন আহমেদ: তাঁর বিশ্বাস ও শেকড়ে ফেরা গ্রন্থটি হুমায়ুনের বিশ্বাসের বলয়কে কতোটুকু স্থায়িত্ব দিবে তা কালই নির্ধারণ করবে। হুমায়ূন ভক্তরা গ্রন্থটি সাদরে গ্রহণ করলেই আমাদের শ্রম-সার্থক বিবেচনায় আনতে পারি।