সাজঘর

By:

Format

Hardcover

Country

বাংলাদেশ

128

“সাজঘর”বইটির প্রথমের কিছু অংশ:
কেরােসিনের চুলায় জাম্বাে সাইজের এক কেতলি। মজনু পাশে বসে আছেএকটু পর পর কেতলির মুখ তুলে পানি ফুটছে কিনা তা দেখার চেষ্টা করছে। তার হিসেব মতে ইতিমধ্যে পানি ফুটে যাওয়া উচিত। অথচ ফুটছে না। ব্যাপারটা কি?
মজনুর বয়স তেরাে-চোদ্দ কিন্তু দেখায় অনেক বেশি। তার মুখ চিমসে গিয়েছে, গালের হাড় উঁচু, মাথার চুল জায়গায় জায়গায় পড়ে গেছে। উপরের পাটির দুটি দাঁত ভাঙা। ভাঙা দাঁতের ফাঁক দিয়ে পিচ করে থুথু ফেলা ছাড়া তার মধ্যে আর কোনাে ছেলেমানুষী নেই।
মজনু পূর্বা নাট্যদলের’ টি বয়। এদের সঙ্গে সে গত তিন বছর ধরে লেগে আছে। তার কাজ হচ্ছে রিহার্সেল চলাকালীন সময়ে একশ থেকে দেড়শ কাপ চা বানানাে। এর বিনিময়ে মাসে সে নরুই করে টাকা পায় এবং রিহার্সেলের এই ঘরে রাতে ঘুমুতে পারে। এমন কোনাে লােভনীয় চাকরি নয়। প্রতি সপ্তাহে মজনু একবার করে ভাবে চাকরি ছেড়ে দেবে। ছাড়তে পারে না। তার নেশা ধরে গেছে। রিহার্সেল
শুনলে তার ভালাে ঘুম হয় না। বৃহস্পতি এবং শুক্র এই দু’দিন রিহার্সেল হয় না। মজনুর খুব অস্থির লাগে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার এই কথা ভেবে এখন থেকেই মজনুর মেজাজ খারাপ। মেজাজ খারাপ হলে সে কিছুক্ষণ পর পর দাঁতের ফাঁক দিয়ে থুথু ফেলে। এখনাে ফেলছে এবং আড়ে আড়ে দরজার দিকে তাকাচ্ছে। কেউ দেখে ফেললে কপালে যন্ত্রণা আছে। তার থুথু ফেলা কেউ সহ্য করে না।
প্রণব বাবু দরজা দিয়ে ঢুকলেন। মজনু অতিরিক্ত গম্ভীর হয়ে পড়ল। প্রণব বাবুকে সে দুচোখে দেখতে পারে না। তার সঙ্গে চোখাচোখি হলেই সে মনে মনে বলে, হারামজাদা মালাউন।
‘মজন।’ মজনু জবাব দিল না। তাকালও না। ‘মজনু, জল ফুটল না কি রে?
Writer

Publisher

Genre

Pages

84

Language

বাংলা

Country

বাংলাদেশ

Format

Hardcover

হুমায়ূন আহমেদ। একজন জনপ্রিয় সহজ লেখকের নাম। তার গল্প, উপন্যাস, স্মৃতিকথা, ভ্রমণ কাহিনী- এমনই বলে। তাঁর লেখার রসবোধ, সেন্স অব হিউমার, তথ্য-উপাত্ত-পরিসংখ্যান ইত্যাদির অভূত সমন্বয় নিয়ে ব্যাপক কথাবার্তা তো রয়েছে অবশ্যই। লেখালিখিই শুধু তাঁর একমাত্র জীবন নয়; এ জীবনের পরেও অন্য একটি জীবন আমরা তাঁর মাঝে খুঁজে পাই। সেটি যথার্থই বিশ্বাসের জীবন। তার ধর্মচিন্তা, চর্চা কিংবা বিশ্বাস ও সংশয়বাদের জা’গাকে মেপেজুকে দেখার নিরন্তর প্রচেষ্টার কথা সাহিত্যপ্রিয়ের কাছে নতুন নয় একদমই। তাঁর মৃত্যুর আগে ও পরে এ চর্চা ছিল এবং রয়েছে। এ জা’গায় আন্তরিক শ্রম দিতে দেখি তরুণ চিন্তক সাঈদ হোসাইনকে। তিনি হুমায়ূন আহমেদের বিশ্বাস ও শেকড়ে ফেরা নিয়ে অল্প কথার অথচ উত্তুঙ্গু ভাবনার বেশ তথ্য পাঠকের সামনে উপস্থাপন করেছেন। লেখকের চিন্তার সৌন্দর্য পাঠক অন্তর ছুঁয়ে যাবে- বলতে দ্বিধা নেই। হুমায়ূন আহমেদ: তাঁর বিশ্বাস ও শেকড়ে ফেরা গ্রন্থটি হুমায়ুনের বিশ্বাসের বলয়কে কতোটুকু স্থায়িত্ব দিবে তা কালই নির্ধারণ করবে। হুমায়ূন ভক্তরা গ্রন্থটি সাদরে গ্রহণ করলেই আমাদের শ্রম-সার্থক বিবেচনায় আনতে পারি।